স্টাফ রির্পোটার:
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)র সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক প্রভাবশালী নেতা মীর মোঃ মাহফুজুর রহমান সম্রাট ০৫ আগস্টের ছাত্র–জনতার অভ্যুথানে মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর গত কিছুদিন ধরে চলমান হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতায় শেষ পর্যন্ত চাকরিতে অনুপস্থিতিতে বাধ্য হয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে রাজনৈতিক অঙ্গন,সর্বত্রই তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাহফুজুর রহমান(সম্রাট) এর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১ জানুয়ারি ২০১০। বাংলাদেশ ছাত্রলীগে যোগদানের মাধ্যমে। দ্রুতই তিনি সংগঠনে জায়গা করে নেন এবং ২০ মে ২০১৩ তারিখে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের অন্তর্গত সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালের ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সম্মেলনে সম্ভাবনাময় প্রার্থী ছিলেন। ছাত্ররাজনীতিতে দীর্ঘ সময়ের সক্রিয়তা পরবর্তী জীবনেও তাকে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত করে রাখে। ছাত্ররাজনীতি শেষে ২৮ জানুয়ারি ২০১৮ সালে পুলিশ ট্রেনিং এবং ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ সালে বাংলাদেশ পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর পদে যোগদান করেন তিনি। পরের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে ডিএমপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে প্রথমে দায়িত্ব পালন করেন বনানী থানায় ও পরবর্তীতে ২০২৩ সালে তাকে বাড্ডা থানায় বদলি করা হয়, ২৩ সাল থেকে ২৪ এর ০৫ আগস্ট পর্যন্ত বাড্ডা থানায় কর্মরত ছিলেন মাহফুজ।ডিএমপির সহকর্মীদের ভাষ্য-সম্রাট দায়িত্বশীল ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হলেও তার ছাত্রলীগ–অতীত তাকে রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত করে রেখেছিল। অভ্যুথানের দিন বাড্ডা এলাকায় ডিউটিতে ছিলেন সম্রাট। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র–জনতা তাকে “ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর” বলে আক্রমণ করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ হতে পারেননি বলে পরিবার জানিয়েছে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকেই তাকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও পুলিশ সদস্য হওয়ায় তাকে ‘দুই দিক থেকেই’ টার্গেট করা হয়। অভ্যুথানের পর সম্রাটকে প্রথমে চট্টগ্রামে এবং পরবর্তীতে নোয়াখালীতে বদলি করা হয়। পরিবার এবং সহকর্মীদের অভিযোগ, এটি নিয়মিত বদলি নয়,বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত চাপ। তাদের দাবি, তাকে একাধিকবার হয়রানি, মামলার ভয় দেখানো এবং জোরপূর্বক বদলির মাধ্যমে কর্মস্থলে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করা হয়, যা তার নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত ডিউটিতে অনুপস্থিত থাকা, চিকিৎসার নথি জমা না দেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ব্যর্থ হোন বলে জানান এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা । মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন,“যদি একজন রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা চলমান মব সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক প্রতিশোধের ভয়ে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন, তবে সাধারণ নাগরিকের জন্য পরিস্থিতি কতটা ঝুঁকিপূর্ণ—তা সহজেই অনুমেয়।”
একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন,“ মাহফুজুর রহমান সম্রাটের ঘটনা অভ্যুথান–পরবর্তী অস্থির বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। সাবেক সরকারের ঘনিষ্ঠ বা ছাত্রলীগ–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নতুন ক্ষমতার কাঠামোয় প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন,এমন অভিযোগ বাড়ছে।” অজ্ঞাত অবস্থান থেকে মাহফুজ এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় জানিয়েছেন,“আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার কর্মস্থলে আমার জীবন নিরাপদ ছিল না। যে কোনো সময় আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হতো। তাই চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছি।”

















