পনেরো মামলার পলাতক আসামী মোটর সাইকেল চোর কাওসার হোসেন আত্মগোপনে। নারী সাপ্লাই, দেহ ব্যবসা, ইয়াবা ব্যবসা, চুরি ছিনতাই, বলৎকার, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হামলাসহ একাধিক অপরাধে কুখ্যাত এ ইয়াবা সাপ্লাইয়ারের বিরুদ্ধে একাধিক ওয়ারেন্ট রয়েছে। পলাতক এ চিহ্নিত অপরাধী ও তার পরিবারের অপরাধের ফিরিস্তি নিয়ে ৩০ পর্বের ধারাবাহিক সাজানো হয়েছে। আজ দশম পর্ব ………………………………………………………..
গোলাপগঞ্জের টিকরবাড়ী গ্রামের রিক্সা চালক মৃত আওলাদ হোসেনের ছেলে পরিচয়ধারী উপজেলা বাস্তুহারা লীগের সাধারণ সম্পাদক কাওসার হোসেনকে নিয়ে চলছে তোলপাড়। অতীতে গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের উপজেলা বাস্তুহারা লীগের সাধারণ সম্পাদকের পরিচয়ে ঘুরে বেড়ালেরও দেশের পট পরিবর্তনের পর প্রথমে নিজেকে জামায়াতের কর্মী দাবী করলেও কিছুদিন পর নিজেকে এনসিপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। তার বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ থানা ও সিলেট কোতয়ালী থানায় বৈষম্য বিরোধী একাধিক মামলায় আসামী হলে সে আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর জামায়াতের সাথে ঘনিষ্টতা বাড়ানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে পরে কৌশলে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির জেলা কমিটির সদস্য পদ ভাগিয়ে নেয়। এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা। সমালোচনা থেকে বাঁচতে প্রথমে সে এনসিপির সাথে ঘনিষ্টতা তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট নিয়ে এনসিপির সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে অস্বীকার করে। কিছুদিন পরেই সে জিন্দাবাজরে এনসিপির মিছিলে যোগদান করলে সমালোচনা আবারো মাথা চাড়া দিয়ে উঠে।

সেলিম হাসান কাওসার উরফে কাওসার হোসেনেরে বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের হয়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হামলার সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা ও থানায় একাধিক মামলা হওয়ার পরও সে এনসিপিতে কিভাবো যোগদান করে। এ নিয়ে সমালোচনা হলে জেলা এনসিপির সদস্য সচিব প্রকৌশল কামরুল আরিফ বলেন, কাওসার সুকৌশলে তথ্য গোপন করে দলে অনুপ্রবেশ করেছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে কাওসার নিজেকে জামায়াত কর্মী পরিচয় দিয়ে দাপিয়ে বেড়ালে প্রথমে পুলিশও তাকে ধরতে অপরাগতা প্রকাশ করে। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হামলায় তার সম্পৃক্তা সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর পুলিশ তাকে গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আর পুলিশ হাত থেকে বাঁচতে সে কৌশলে এনসিপিতে প্রবেশ করে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। এনসিপিও তাকে বহিস্কারের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে কাওসারকে ধরতে টিলাগড়ের একজন কাপড় ব্যবসায়ী পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। কাওসার নিজেকে আমেরিকা প্রবাসী দাবী করে ঐ ব্যবসায়ীর সু-রোম থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের কাপড় প্রতারণা করে নিয়ে যায়। ব্যবসায়ী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় মামলা করেছেন। কাওসারের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়াও বলৎকারের একাধিক মামলায় সে পলাতক আসামী। তার বিরুদ্ধে ১৫টি গ্রেফতারী পরোয়ানা রয়েছে বলে জানযায়।



















