বুধবার , ১৯ নভেম্বর ২০২৫ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. কৃষি ও প্রকৃতি
  4. খুলনা
  5. খেলা
  6. গণমাধ্যম
  7. চট্টগ্রাম
  8. চাকরী
  9. ঢাকা
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. নারী ও শিশু
  13. প্রবাস
  14. বরিশাল
  15. বিনোদন

গণঅভ্যুত্থানের দেড় বছর পর যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা;শেখ হাসিনাসহ আসামি ৪৮,অজ্ঞাত১৫০-১৬০

প্রতিবেদক
Ayman
নভেম্বর ১৯, ২০২৫ ৩:৫১ অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্টঃ ঢাকা,
গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের পর যাত্রাবাড়ী থানা মামলা নং–৫৫ নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ মোট ৪৮ জন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং অজ্ঞাতনামা ১৫০–১৬০ জনকে আসামি করা হয়। সরকারি হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ পুলিশের উপপরিদর্শক মীর মোঃ মাহফুজুর রহমান সম্রাট এ মামলায় ২৩ নম্বর আসামি।

মোঃ মনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ১৮ নভেম্বর মামলাটি দায়ের করেন। মামলার সময়কাল ও বিস্তৃত আসামির তালিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, “গণঅভ্যুত্থানের পরপরই দায়ের হওয়া এই মামলার তালিকা ইঙ্গিত করে যে এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।”

বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থানরত মীর মাহফুজুর রহমান নিজেকে “রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার” দাবি করেছেন। তিনি জানান, “আমাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। দেশে ফিরলে জীবনের নিরাপত্তা থাকবে না।” তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রলীগের অনেক সাবেক ও বর্তমান নেতাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে ‘বিতর্কিত’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রতিপক্ষকে টার্গেট করে মামলা দেওয়া দক্ষিণ এশিয়ার পরিচিত ধারা হলেও, এই মামলার তালিকা অস্বাভাবিকভাবে বিস্তৃত।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম থাকা যাত্রাবাড়ী থানার বহুল আলোচিত মামলার এফআইআর তালিকায় নিজের অবস্থানকে “রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ” দাবি করছেন মীর মোঃ মাহফুজুর রহমান সম্রাট।
সাবেক সভাপতি (সরকারি হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ ও বাংলাদেশ পুলিশের উপ-পরিদর্শক) মীর মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর তার উপর নজরদারি, হুমকি এবং ভীতিপ্রদর্শন বেড়েছে।তিনি জানান “যে মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের নাম রয়েছে, সেই মামলায় আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ।”
তিনি বলেন, দেশে তার জীবন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা হুমকির মুখে, এবং তিনি আর দেশে ন্যায়বিচার পাবেন বলে বিশ্বাস করেন না।
মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এ ধরনের মামলা “ক্ষমতার পালাবদল–পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিশোধ, লক্ষ্য নির্ধারণ ও নির্বাচনী পরিবেশে বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নিরাপত্তা বিশ্লেষক জানান-এ ঘটনায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া এবং নাগরিক অধিকারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, “গণঅভ্যুত্থানের পর চলমান ‘রাজনৈতিক শুদ্ধি প্রক্রিয়া’ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে; এতে তরুণ ও শিক্ষার্থী রাজনীতিতে ভীতি তৈরি হতে পারে।”

সর্বশেষ - বিশেষ প্রতিবেদন