পনেরো মামলার পলাতক আসামী মোটর সাইকেল চোর কাওসার হোসেন আত্মগোপনে। নারী সাপ্লাই, দেহ ব্যবসা, ইয়াবা ব্যবসা,চুরি ছিনতাই, বলৎকার, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হামলাসহ একাধিক অপরাধে কুখ্যাত এ ইয়াবা সাপ্লাইয়ারের বিরুদ্ধে একাধিক ওয়ারেন্ট রয়েছে। পলাতক এ চিহ্নিত অপরাধী ও তার পরিবারের অপরাধের ফিরিস্তি নিয়ে ৩০ পর্বের ধারাবাহিক সাজানো হয়েছে। আজ তৃতীয় পর্ব ...............................................................
নগরীর মেজরটিলা বাসিন্দা আলাউর রহমানের সাথে মোটর সাইকেল চোর কাওসারের বিদেশ লোক পাঠানো নিয়ে একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুসারে ইয়াবা কাওসার আলাওর রহমানের এক আত্মীয়কে সৌদি আরবে পাঠানোর কথা বলে কাওসার হোসেন নগদ দুই লক্ষ টাকা নেন। কথা ছিল দুই মাসের মধ্যে আলাওর রহমানের লোককে বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করে কাওসার হোসেন আরো আড়াই লক্ষ টাকা নিবেন। কিন্তু কথায় আছে, ‘কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না।’ যা যে নিশা সেটি ছাড়তে পারে না। চোর তো চোর ই হয়। প্রতারক হয় প্রতারক। সরল বিশ্বাসে কাওসারের কথায় আলাওর রহমান চুক্তি করে টাকা দিয়ে যেন বিপদ কিনে আনলেন। ঘটনাটি ২০২৩ সালের।
চুক্তি অনুযায়ী কাওসার হোসেন আলাওর রহমানের লোককে বিদেশ না দিয়ে প্রতারণা করেন। এ নিয়ে আলাওর রহমান কাওসার হোসেনের সাথে একাধিকবার শালিশ বৈঠক করলে চোর কাওসার আলাওর রহমানকে এক লক্ষ টাকা দেয়। বাকি এক লক্ষ টাকা উদ্ধারে মাথায় ঘাম কয়েক বার পায়ে ফেলেও উদ্ধার করতে পারেন নাই। এক পর্যায়ে ময়মুরব্বী নিয়ে কাওসারের চাকুরীস্থল জিন্দাবাজারের আজগর স্কয়ারে গিয়ে টাকার কথা বললে প্রতারক কাওসার কৌশলে টাকা দেবার জন্য সময় নিয়ে আলাওর রহমান ও তার ময়মুরব্বীকে বিদায় দেয়। পরবর্তীতে ইয়াবা কাওসার তার গাড়ির ক্লাস ভেঙ্গে পরদিন কোর্টে গিয়ে আলাওর রহমান ও তার ময়মুরব্বী ৫জনকে আসামী করে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করে। আদালত এফআইআরের নির্দেশ দেন।
ঘটনার আকস্মিকতায় আলাওরের মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। তিনি ও অন্যান্য আসামীরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে পুলিশকে আসল বিষয়টি অবগত করলে থানা পুলিশ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে তদন্ত করে প্রতারক কাওসারের জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পুলিশ বাদী হয়ে আদালতে বাদী কাওসারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ২১১ ধারায় আর্জি দেয়। প্রতারকের প্রতারণা সব জায়গায়ই চলে। আর প্রতারক কাওসার সব সময় থাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে। সে পরিস্থিতির বিষয়টি আঁচ অনুধাবন করতে পেরে কোর্টের পেশকারকে ম্যানেজ করে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়। অপরদিকে আলাওর হোসেন প্রতারক কাওসারের আদালতে জালিয়াতির বিষয় নিয়ে উচ্চ আদালতে আপীল করলে আদালত দীর্ঘ শুনানী শেষে আপীল মঞ্জুর করে বাদী কাওসার হোসেনের বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় মামলা দায়েরের জন্য থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়। কোতোয়ালী থানা পুলিশ বাদী কাওসারের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে ২১১ ধারায় মামলা করে। মামলা নং-৪৫৫/২৫। মামলা দায়েরের পর বাদী কাওসার হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন আদালত। বর্তমানে সে পলাতক রয়েছে।
এ বিষয়ে বয়োবৃদ্ধ আলাওর রহমান বলেন,, আমি একজন বৃদ্ধ লোক। আমার এক আত্মীয়কে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে কাওসার ২ লক্ষ টাকা নেয়। পরে বিদেশ না নিয়ে সে টাকা দিতে টালবাহানা করে। এক পর্যায়ে সে আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজী মামলা করে। পুলিশ তদন্ত শেষে বাদীর বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশে ২১১ ধারায় মামলা করে। সে পলাতক রয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বর মামলার ধার্য্য তারিখ রয়েছে। কাওসারের ভাই মাহবুব কিছুদিন আগেও আপোষের জন্য আমার কাছে এসে তার মায়ের সালাম দিয়েছে। আমি জানতে পেরেছি, তার মাও একজন চরিত্রহীনা। আমি ন্যায় বিচারের প্রত্যাশী। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে হয়রানী করেছে। ৩০ নভেম্বর সে আদালতে আসিলে আমি আশাবাদী আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করবেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মিনু বাঙালী, অফিস : ১২৬/এ, উত্তরা, ঢাকা। ই-মেইল : dhakaview88@gmail.com
এই ওয়েব সাইটের লেখা, ভিডিও, ছবি অনুমতি ব্যতিত ব্যবহার নিষেধ।
Copyright © 2026 ঢাকা ভিউ ।. All rights reserved.