বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পনেরো মামলার পলাতক আসামী মোটর সাইকেল চোর কাওসার হোসেন আত্মগোপনে। নারী সাপ্লাই, দেহ ব্যবসা, ইয়াবা ব্যবসা, চুরি ছিনতাই, বলৎকার, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হামলাসহ একাধিক অপরাধে কুখ্যাত এ ইয়াবা সাপ্লাইয়ারের বিরুদ্ধে একাধিক ওয়ারেন্ট রয়েছে। পলাতক এ চিহ্নিত অপরাধী ও তার পরিবারের অপরাধের ফিরিস্তি নিয়ে ৩০ পর্বের ধারাবাহিক সাজানো হয়েছে। আজ ১৩তম পর্ব ………………………………………………………..
সিলেট জেলা এনসিপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কাওসার হোসেন উরফে লাউটা কাওসারের সব ছোট বোন মনিরা তালতো ভাইয়ের হাত ধরে দিন দুপুরে ঘর ছেড়েছে। গত সোমবার দুপুরের কোন এক সময় সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। এর পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। যাওয়ার বেলা ঘরের শেষ সম্ভল নগদ ১০ হাজার টাকাও নিয়ে যায়। কাওসার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কতিপয় ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে থানায় ভূয়া অপহরণের অভিযোগ দেয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্তিতে থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক তদন্ত করে জানতে পারে মনিরা অপহরণ নয়, তালতো ভাইয়ের প্রেমে হাবুডুবু খেয়ে হাত ধরে পালিয়েছে।
মনিরা তার তালতোে এক তালতো ভাইয়ের সাথে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তালতো ভাইয়ের সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ের সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু বিধি বাম, পরিবারের অন্য ভাইবোন, মা যেখানে পরক্রিয়া করে বিয়ের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে সেখানে মনিরা কেন ব্যতিক্রম হবে? গত মাস খানেক আগে ইয়াবাসহ কাওসারের মা রহিমা ও তার আরেক বোন বাড়ির পাশের খাসিখাল ব্রিজের নিচ থেকে রাত ১১ টায় ইয়াবা পাচার কালে ডিবির হাতে হ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে আছে। কয়েক দফা চেষ্টা করেও জামিন না হওয়ায় এবং হাইকোর্ট বন্ধ থাকায় আপাতত জেল জীবনই তােদের নিয়তি। এদিকে পারিবারিক ভাবে বিয়ের অপেক্ষা না করতে পেরে মনিরা স্ব ইচ্ছায় তালতো ভাইয়ের হাত ধরে পালিয়ে যায়।
ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে বলৎকার কাওসার ভূয়া অপহরণের অভিযোগ দিয়ে কতিপয় ব্যক্তিকে হয়রানী করার চেষ্টা করে। কিন্তু তার সে চেষ্টা সফল হয় নাই। পুলিশ অনুসন্ধানে আসল তথ্য বের করেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পঠুয়াখালীতে তাদের শেষ লোকেশন চিহ্নিত করতে পেরেছে পুলিশ। যেকোন সময় তাদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানা গেছে।
অসংখ্য মিথ্যা মামলার কারিগর, মামলাবাজ কাওসার অতীতেও অনেক মিথ্যা মামলা করে তদন্তে পুলিশ বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে ২১১ ধারায় মামলা করেছে। গত ৩০ নভেম্বর, সিলেট এনসিপির আহবায়ক নানা ভাই অ্যাডভোকেট আফজল এরকম একটি মামলায় সিলেট অতিরিক্ত মেট্টোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট থেকে তার জামিন করিয়েছেন। আগামী ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬ ইংরেজি কাওসারের বিরুদ্ধে জোড়া মামলার রায় ঘোষিত হবে। এই মামলাদ্বয়ের আইনজীবী হিসেবে আছেন নানা ভাই অ্যাডভোকেট আফজাল।


















