হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের নবিগঞ্জ উপজেলার রফিক মিয়া নামে একজনকে হত্যার মামলায় এক জনকে মৃত্যুদন্ড, ৩ জনকে যাবজ্জীবন ও ১ জনকে ১০ বছরের কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। প্রত্যেকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রবিবার (২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫) দুপুরে এ রায় দেন হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক রেশমা আক্তার রেখা।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন একই উপজেলার হোসনপুর গ্রামের একই পরিবারের ৩ ভাই মৃত আলীম উল্লাহ এর ছেলে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ চাদ, যাবজ্জীবন প্রাপ্তরা হলেন, হাবিবুল্লাহ, মো: বদরুল ইসলাম ও মৃত ছলিম মোল্লার ছেলে আখলিছ মিয়া। এছাড়া মৃত আব্দুল হকের ছেলে ফজলুল হককে ১০ বছরের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। আদালতের পেশকার তপনশীল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলায় মোট ৫ জন আসামী ছিলেন। ১ জনকে মৃত্যুদন্ড, ৩ জনকে যাবজ্জীবন ও ১ জনকে ১০ বছরের কারাদন্ড এর আদেশ প্রদান করেন আদালত। এই মামলায় মোট ৯জন সাক্ষীর মধ্যে ৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বিচারক রায় দিয়েছেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী একেএম বজলুল আমিন বলেন, আমরা রায়ে সন্তুষ্ট। আমি মনে করি এ রায় একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। এর মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। মামলার বাদী আব্দুল বাছিত বলেন, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। তবে এখন দ্রুত আসামিদেরকে গ্রেফতার করে সাজা কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি।
মামলার বিবরণে জানাযায়, ঐ উপজেলার আউশ কান্দি বাজার সংলগ্ন ৮ কাটা জমিতে ১৫/০৭/২০১৬ ইং তারিখে বিকাল অনুমান ৫.০০ ঘটিকার সময় বাদী তার ক্রয়কৃত জমিতে দোকান কোঠা নির্মাণ করিতে গেলে আসামীরা রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়ীক পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দোকান নির্মাণে বাধা প্রদান করেন। এতে বাদী পক্ষ বাধা প্রদান করিলে আসামীরা লাঠিসোটা, দেশীয় অস্ত্র ও পিস্তল দিয়ে গুলি ছুড়ে। আসামীদের ছুড়া গুলিতে কয়েকজন মারাত্মক আহত হন এবং বাদীর পক্ষের রাজমিস্ত্রী রফিক মিয়ার গায়ে গুলি লাগে রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলে মারা যায়। ঐ ঘটনায় ৫ জনকে আসামী করে আব্দুল বাছিত চৌধুরী নবীগঞ্জ থানায় ১৬/০৭/২০১৬ তারিখে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক ৭জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে হত্যাকান্ডের ৯ বছর পর উল্লেখিত রায় প্রদান করেন।
আর খবর নিয়ে জানাযায়, ৪নং আসামী মোঃ বদরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা হবিগঞ্জ আদালতে চলমান আছে। এর মধ্যে একটি ২ আগস্ট ২০২৪ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় হবিগঞ্জে মুস্তাক নামে একজনকে হত্যা করা হলে ২১/০৮/২০২৪ ইং তারিখে হবিগঞ্জ সদর থানায় এসএম মামুন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় বদরুল ইসলামকেও আসামী করা হয়। ঐ আন্দোলনের সময় অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করার অভিযোগে তাহার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ২টি পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ এবং তাহার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা দায়ের করে। এখন সে প্রত্যেকটি মামলায় পলাতক অবস্থায় আছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মিনু বাঙালী, অফিস : ১২৬/এ, উত্তরা, ঢাকা। ই-মেইল : dhakaview88@gmail.com
এই ওয়েব সাইটের লেখা, ভিডিও, ছবি অনুমতি ব্যতিত ব্যবহার নিষেধ।
Copyright © 2026 ঢাকা ভিউ ।. All rights reserved.