বিশেষ প্রতিবেদক ঃ
পনেরো মামলার পলাতক আসামী মোটর সাইকেল চোর কাওসার হোসেন আত্মগোপনে। নারী সাপ্লাই, দেহ ব্যবসা, ইয়াবা ব্যবসা,চুরি ছিনতাই, বলৎকার, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে হামলাসহ একাধিক অপরাধে কুখ্যাত এ ইয়াবা সাপ্লাইয়ারের বিরুদ্ধে একাধিক ওয়ারেন্ট রয়েছে। পলাতক এ চিহ্নিত অপরাধী ও তার পরিবারের অপরাধের ফিরিস্তি নিয়ে ৩০ পর্বের ধারাবাহিক সাজানো হয়েছে। আজ পঞ্চম পর্ব ………………………………………………………
সম্প্রতি সিলেট নগরীতে এক অভিনব চুরের সন্ধান মিলেছে। চোরটি কাপড়ের বিভিন্ন দোকানে গিয়ে নিজেকে আমেরিকা প্রবাসী বলে দাবী করে। দোকান মালিকের সাথে কথার ভাব জমিয়ে ভালো ভালো কাপড় বাঁচাই করে। দোকান মালিককে কিছুক্ষণের মধ্যে এসে টাকা পরিশোধ করবে বলে নিয়ে যায়। এ নিয়ে সিলেট নগরীতে একাধিক মামলাও হয়েছে আধুনিক এই চুরের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চুরটির এসব অপকর্ম নিয়ে ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। প্রশাসনের তৎপরতার টের পেয়ে কুখ্যাত এ চুরটি গা ঢাকা দিয়েছে। আধুনিক এ চুরটি হলো গোলাপগঞ্জের রণকেলী টিকরবাড়ী গ্রামের রিক্সাচালক মৃত আওলাদ আলীর ছেলে দাবীকৃত কাওসার হোসেন ওরফে সেলিম হাসান কাওসার ওরফে চোর কাওসার।
গত কিছুদিন আগে নগরীর টিলাগড়ের একটি ফ্যাশন সো হাউস থেকে চোর কাওসার নিজেকে আমেরিকা প্রবাসী দাবী করে দোকানের মালিকের সাথে অন্দরঙ্গ ভাব জন্মায়। শেষে মালিকের দোকান থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা মূল্যের কাপড় নিয়ে যায়। মালিককে বলে, ব্যাংকের কার্ড সে বাসায় ভুলে ফেলে এসেছে। কিছুক্ষণের মধ্যে কার্ড নিয়ে এসে টাকা পরিশোধ করবে। সে তার ফোন নাম্বারও দিয়ে যায়। কিন্তু ঘন্টা খানেক অপেক্ষার পর দোকান মালিক তাকে কল দিলে নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর অনেক চেষ্টা করেও আর যোগাযোগ করতে পারেন নাই। পরবর্তীতে দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজের স্ক্রিনশট দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। ফেসবুক পোস্টের সূত্র ধরে নগরীর লামাবাজারের আরেক কাপড় ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, একই চোর কিছুদিন আগে তার দোকান থেকেও আমেরিকা প্রবাসী দাবী করে ২৫ হাজার টাকা মূল্যের কাপড় নিয়ে যায়। উভয় ব্যবসায়ী মোবাইল নাম্বার দিয়ে অজ্ঞাত চোরের বিরুদ্ধে মামলা করলে থানা পুলিশ মোবাইল নাম্বারের সূত্র ধরে ও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চিহ্নিত করে চোর কাওসারকে সনাক্ত করে। পুলিশের তৎপরতার খবর পেয়ে চোর কাওসার গা ঢাকা দিয়েছে।
খোজ নিয়ে জানাযায়, চোর কাওসার এই কৌশলে নগরীর প্রায় ১৫টি দোকান থেকে কাপড় চুরি করেছে। এসব কাপড় সে কম দামে সুনামগঞ্জে নিয়ে বিক্রি করার খবর পাওয়া গিয়েছে। অতীতেও সে একই কৌশলে চুরি করলেও কখনো ধরা পড়ে নাই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানাযায়, চোর কাওসার প্রশাসনের নজরদারীর মধ্যে আছে। যেকোন মুহূর্তে সে গ্রেফতার হবে। তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনার পেছনে কারো যোগসাজস আছে কিনা তাও বেরিয়ে আসবে।

















